বহুজাতিক রঙ উৎপাদক বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জেনসন অ্যান্ড নিকলসন প্যাকেজিং লিমিটেডে (জেএনপিএল) ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে বার্জার পেইন্টস।
তথ্যানুসারে, নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিং সামগ্রী উৎপাদন করবে। এতে বার্জার পেইন্টসের মালিকানা থাকবে ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশ মালিকানার জন্য ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটির আরেক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জেনসন অ্যান্ড নিকলসন (বাংলাদেশ) লিমিটেড। নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বরাদ্দ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে ৩৯ দশমিক ৪১ একর জমির বিদ্যমান লিজ চুক্তি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্জার পেইন্টসের পর্ষদ। সংশোধনের পর ৩৮ দশমিক ২৫ একর থাকবে বার্জার পেইন্টসের অধীনে, আর বাকি ১ দশমিক ১৬ একর বরাদ্দ দেয়া হবে জেনসন অ্যান্ড নিকলসন প্যাকেজিংয়ের নামে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বার্জার পেইন্টসের সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৩৩৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭২ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৯ টাকা ৯২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ টাকা ৪২ পয়সায়।
এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ২৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ জুলাই।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বার্জার পেইন্টসের ইপিএস হয়েছে ৬৯ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৪ টাকা ৯১ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০৯ টাকা ৫৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বার্জার পেইন্টসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬৪ টাকা ৯১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৭৯ টাকা ৭৮ পয়সায়।
বার্জার পেইন্টসের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল)।
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বার্জার পেইন্টসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৯ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৩৯২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৯৯১। এর ৯৫ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক শূন্য ৭, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ২০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।